শোভন VS রত্না: স্ত্রীর পাশে মমতা, রাজ্য রাজনীতিতে জমে উঠতে চলেছে আগামীর লড়াই

দিল্লিতে গিয়ে বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা এক সময়কার তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী শোভন চট্টোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগদান করলেন। ঠিক তার পরই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলে গুরুত্ব বাড়তে চলেছে তাঁর স্ত্রী রত্নার চট্টোপাধ্যাযের। বুধবার হাজরা মোড়ে প্রাক স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানে সেই বিষয়টি স্পষ্ট করে দিলেন খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো। দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের উদ্দেশে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,’পার্থ দা-কে বলছি রত্নাকে আরও বেশি করে সংগঠনের কাজে লাগাবেন।’

বুধবার বিকেলে বিজেপিতে যোগ দেন শোভন ও বৈশাখী। টিভিতে সেটা লাইভ দেখেন রত্নাদেবী। এরপরই বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলে রত্না বলেন, ‘অনৈতিক কাজ করল বিজেপি। দলের সঙ্গে। স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কাজ করা লোককে টেনে নিল তারা। অথচ নৈতিকতার কথা বলে বিজেপি।’

এদিন হাজরা মোড়ে তৃণমূলের প্রাক স্বাধীনতা উদযাপন অনুষ্ঠানেও দেখা যায় রত্না চট্টোপাধ্যায়কেও। নিজের ভাষণের একেবারে শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাশে থাকার বার্তা দেন। তৃণমূল নেত্রী বলেন,’পার্থ দা-কে বলছি রত্নাকে কাজে লাগাবেন। তুমি দুঃখ পেও না। শ্বশুরবাড়ি, বাপের বাড়ি আছে, তোমার পাশে আছে তৃণমূল কংগ্রেস পরিবারও। কারও অনৈতিক কাজ করা উচিত নয়। নৈতিক কাজ করা উচিত। সারা ভারতের মহিলাদের পাশে রয়েছে তৃণমূল।’

উল্লেখ্য, একটা সময়ে দিদির অত্যন্ত প্রিয়পাত্র ছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। কলকাতা পুরসভার মেয়র থেকে মন্ত্রিত্ব-সবই পেয়েছিলেন। বৈশাখীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি এবং তারপরই হঠাৎ নেত্রীর সঙ্গে দূরত্বের সূত্রপাত।

বিজেপিতে যোগদান প্রসঙ্গে শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, ‘টেকটিক্যালি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কারণ ব্যক্ত করতে পারবেন। কেন, কী হয়েছে, কী জায়গায় বলেছিলেন, সেটা তাঁর কাছে পরিষ্কার। গত বছর 22 নভেম্বরের পর আমার সঙ্গে ওনার আর কোনও ভাবেই সরাসরি যোগাযোগ বা কথা হয়নি। আমাকে বোঝানোর কথা হচ্ছে বলে শুনেছি, সেটা সবটাই জল্পনা।’

প্রসঙ্গত, একটা সময়ে মহেশতলার বিধায়ক ছিলেন কস্তুরী দাস। তিনি শোভন চট্টোপাধ্যায়ের শ্বাশুড়ি এবং রত্নাদেবীর মা। কস্তুরী দাস মারা যাওয়ার পর সেখানে উপনির্বাচনে বিরাট মার্জিনে যেতেন তাঁর স্বামী দুলাল দাসকে। তিনি মহেশতলা পুরসভার চেয়ারম্যানও। ফলে রত্না চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পরিচয় শুধুমাত্র স্বামী শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পরিসরে কোনও দিনই সীমাবদ্ধ ছিল না। যেটা আগামীদিনে রাজ্য রাজনীতিতে শোভন বনাম রত্না লড়াইয়ে খুব তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।