এতখানি বাজি ধরা ব্যুমেরাং হতে পারে বিজেপির কাছে

যে কোনও রাজনৈতিক চরিত্রই যে কোনও মুহূর্তে দলবদল করার স্বাধীনতা বা অধিকার ভোগ করে থাকেন। সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ইদানিং এতটাই অবক্ষয় ঘটেছে যে দলবদলের সময় কেউই মনে রাখেন না, পুরোনো দলই তাঁকে অন্য দলে যাওয়ার উপযুক্ত হওয়ার সুযোগ দিয়েছিলো বলেই আজ সে দলবদলের বাজারে দাম পাচ্ছেন। যেমন বুধবার পেলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়।

দিল্লির বিজেপি দফতরে শোভনবাবুর সুখ্যাতি করে এদিন বিজেপি নেতা মুকুল রায় যা বলেছেন তার নির্যাস এই রকম, শোভনের যোগদানে বঙ্গে বিজেপির শক্তিবৃদ্ধি হলো।
শোভনের যোগদানে তৃণমূল বিধানসভা নির্বাচনে 30টি আসনও পাবেনা এবং শোভনের যোগদানে কলকাতা পুরসভার দখল নেবে বিজেপি। এসব কথার অর্থ একটাই, বঙ্গ-বিজেপি ইতিমধ্যেই বুঝে ফেলেছে, বিধানসভার 294 আসন বা কলকাতা পুরসভার 144 আসনে লড়াই করার মতো জায়গায় বিজেপি নেই। তাই অন্য দলের লোকজনকে বিজেপিতে সামিল করানো একান্তই প্রয়োজন।
বিজেপি’র শীর্ষ নেতৃত্ব এই মুহূর্তে শোভনকে যত নম্বর দিচ্ছে, তার ভিত্তি সম্ভবত একটাই, দিল্লিতে শোভনকে প্রবল জনভিত্তিসম্পন্ন একজন নেতা হিসাবে প্রোজেক্ট করা হয়েছে।
কিন্তু বাংলার মানুষ শোভনকে দীর্ঘদিন ধরেই জানেন, চেনেন। শোভন একজন দক্ষ প্রশাসক হতে পারেন, কিন্তু তিনি কোনও কালেই জনভিত্তিসম্পন্ন নেতা নন। তাঁর প্রভাবে গোটা রাজ্য অথবা কলকাতা পুর এলাকা প্রভাবিত হবে, শোভনের পিছনে এতখানি বাজি ধরা ব্যুমেরাং হতে পারে বিজেপির কাছে। তৃণমূলনেত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসাবে, নেত্রীর নাম ব্যবহার করে রাজ্যের সর্বস্তরের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ওপর ছড়ি ঘোরানো যতখানি সহজ, ঠিক ততটাই কঠিন, তার থেকেও বেশি কঠিন, তৃণমূল থেকে দলে দলে নেতা-কর্মীকে বিজেপিতে সামিল করানো। এ কাজ সহজ হলে তৃণমূলে শোভন চট্টোপাধ্যায়েরও নেতা থাকা মুকুল রায় এতদিন যতখানি গর্জালেন, ততখানি বর্ষণ আনতে পারলেন কোথায় ?

দীর্ঘদিন পুর-রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কলকাতার 144টি ওয়ার্ডে সমান প্রভাব রয়েছে শোভনের, এটা ভেবে নেওয়া আর জুয়া খেলা, বিজেপির কাছে দুটোই সমান।
ভবিষ্যতই বলবে, শোভন চট্টোপাধ্যায়কে রাজা’র পার্ট দেওয়া বিজেপির পক্ষে কতখানি আত্মঘাতী হলো।

শোভন-সঙ্গী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে রাজনৈতিক কথা বলা নেহাতই অপ্রয়োজনীয়।শিক্ষিত, সুশোভন, মার্সিডিজ কালচারে অভ্যস্ত কোনও অ-রাজনৈতিক চরিত্র, একুশের বিধানসভা ভোটে বিজেপির পালে আম-জনতার হাওয়া লাগাতে সক্ষম হবেন, সেদিকে নিশ্চয়ই নজর রাখবেন দিল্লির বিজেপি।