দিনের পর দিন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বাড়ছে গরু-সহ অন্যান্য পাচার চক্র

যত দিন যাচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে সোনা, মাদক, গরু পাচার বেড়েই চলেছে। বাদ নেই মানব পাচারও। প্রায় প্রত্যেক দিনই সীমান্তরক্ষীদের হাতে ধরা পড়ছে স্মাগলাররা। কিন্তু ধরা পড়লেও সমস্তরকম অস্ত্র মজুদ থাকায় সবাইকে ধরা সম্ভব হচ্ছে না সীমান্ত বাহিনীদের। বোমা গুলি থেকে শুরু করে অন্য সমস্তরকম অস্ত্র দিয়ে হামলা করছে দুষ্কৃতীরা।

আজ, বুধবার এই প্রসঙ্গে দক্ষিণবঙ্গ বিএসএফ আইপিএস ওয়াই.বি খুরানিয়া বলেন, ‘সীমান্তে পশু পাচারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এছাড়া অন্যান্য পাচারের জন্য নতুন পদ্ধতির প্রয়োগ করা হচ্ছে। সম্প্রতি এর এক উদাহরণ পেয়েছি আমরা। যেখানে পশুদের কলা গাছে বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়, যাতে জল দিয়ে নিজেরাই ওরা সীমান্ত পেরিয়ে যায় ভেসে ভেসে। জওয়ানদের ওপরেও পাচারকারীরা হামলা চালায়। এই পশুদের ওপর আইইডি বোম লাগানো হয়, যাতে জওয়ানরা হাত দিলেই তা ফেটে যায় ও জওয়ানরাও মারা যান। যত পশু ধরা হয়েছে তাদের যাতে এনজিওতে দিয়ে দেওয়া যায় তাই বিভিন্ন এনজিওদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।’

ওযে সমস্ত স্মাগলাররা সীমান্ত বাহিনীর হাতে ধরা পড়ছে তারা নিমিত্ত মাত্র। এই স্মাগলার দলের পান্ডারা ঠাণ্ডা ঘরে বসে সমস্তরকম কারুকার্য ঘটাচ্ছে। এ সমস্ত পাণ্ডাদের পাকড়াও করা ধরাছোঁয়ার বাইরে। এর ফলে দিনের পর দিন সীমান্তে সবরকম পাচার অতি সহজেই ঘটে চলেছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনেক মানুষই বসবাস করেন। তাদের মধ্যে অনেকেই এই পাচারের সঙ্গে যুক্ত। এদের সকলের কাছেই প্রায় বন্দুক থেকে শুরু করে দা, বাঁশ, দেশি বোমা সমস্ত রকম সরঞ্জাম মজুদ থাকে। সূত্রের খবর, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে সব থেকে বেশি পাচার হয় গরু। এছাড়াও গাঁজা, মাদক, জাল নোট, সোনা তো আছেই।

আশ্চর্যের বিষয় বাংলাদেশ থেকে সব থেকে বেশি মানব পাচার হয়। বর্ষাকালে অনেক অংশে বন্যা হওয়ায় গরু সাঁতার কেটে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ঢুকে পড়ে। অনেক সময় বিভিন্ন পদ্ধতিতে এই গরুর সঙ্গে স্মাগলারাও রাতারাতি সীমান্ত পেরিয়ে চলে আসে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই সমস্ত ছোটখাটো স্মাগলাররা ধরা পড়লেও তাদের পাণ্ডাদের খবর তাদের কাছে খুব একটা থাকে না। তাদের কাছে যেটুকু তথ্য থাকে সেই দিয়ে মামলা করা হয়। এই মামলাগুলো সঠিকভাবে তদন্ত হলে স্মাগলার দলের পাণ্ডাদের ধরতে কিছুটা সাহায্য হবে।

আরও পড়ুন-শোভনের দলবদল দেখে যা যা প্রশ্ন উঠল

ছবি : প্রকাশ পাইন