রাখি বন্ধন নিয়ে অজানা তথ্য, যা আপনাকে জানতেই হবে

রাখিবন্ধন সৌভ্রাতৃত্বের উত্‍সব। এই উত্‍সব শুধু ভাই-বোনের মধ্যে নয়, গোটা সমাজের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলে। রাখিবন্ধন হিন্দুধর্ম এবং আমাদের দেশের সংস্কৃতির সৌন্দর্য ও একতাকে প্রস্ফুটিত করে তোলে।

রাখি বন্ধন উত্‍সবের সূচনা পাওয়া যায় হিন্দু পুরাণে। পুরাণমতে, একবার দেবতাদের সঙ্গে অসুরদের প্রচণ্ড যুদ্ধের সময় দেবরাজ ইন্দ্রের স্ত্রী ইন্দ্রাণী তাঁকে সব অশুভ শক্তির থেকে রক্ষা করার জন্য হাতে একটি রেশমের সুতো বেঁধে দেন। পুরাণে আরও রয়েছে যে শ্রীবিষ্ণু রাক্ষস রাজা বালিকে আশীর্বাদ করেন যে তিনি বালির প্রাসাদে থাকবেন। এই ঘটনায় মর্মাহত লক্ষ্মীদেবী বালির হাতে রাখি বেঁধে তাঁকে বিষ্ণুকে ফিরিয়ে দিতে রাজি করান।

আরও পড়ুন-ভারতীয় ক্রিকেটে এবার “করণ অর্জুন”! বাইশ গজ মাতাতে তৈরি হচ্ছেন শাহরুখ-সলমান

গণেশের দুই পুত্র শুভ ও লভ যখন দেখেন যে গণেশের বোন তাঁকে রাখি পরাচ্ছে, তখন তাঁরাও একটি বোনের জন্য প্রার্থনা করেন। তাঁদের প্রার্থনা শুনেই আগুন থেকে একটি কন্যার সৃষ্টি করেন গণেশ, যিনি সন্তোষী মা নামে পরিচিত হন। মহাভারতে পাওয়া যায়, একবার ঘুড়ি ওড়াতে গিয়ে শ্রীকৃষ্ণ নিজের হাত কেটে ফেলেন। তখন দ্রৌপদী নিজের শাড়ি থেকে একটা টুকরো ছিঁড়ে কৃষ্ণের হাতে বেঁধে দেন। এর বিনিময়ে কৃষ্ণ তাঁকে সারাজীবন রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেন। যা তিনি দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণের সময় পালন করেছিলেন।

মধ্যযুগে যুদ্ধে যাওয়ার আগে রাজপুত রমণীরা পুরুষদের হাতে রাখি বেঁধে দিতেন। রাখিকে শুভশক্তির প্রতীক হিসেবে মনে করা হয়। আলেকজান্দার যখন ভারত আক্রমণ করেন, তখন তাঁর স্ত্রী রাজা পুরুর হাতে রাখি বেঁধে দেন। সেই থেকে পুরু তাঁকে নিজের বোন হিসেবে স্বীকার করেন এবং আলেকজান্দারের কোনও ক্ষতি না করতে সম্মত হন। ইতিহাসে আরও পাওয়া যায় যে চিতোরের রানি কর্নাবতী দিল্লির বাদশাহ হুমায়ুনকে একটি রাখি পাঠিয়ে গুজরাতের সুলতান বাহাদুর শাহের আক্রমণ থেকে তাঁর রাজ্য বাঁচানোর অনুরোধ করেন। হুমায়ুন রাখি পেয়ে চিতোর রক্ষা করতে আসলেও বেশ কিছুটা দেরি হয়ে যায়। ততক্ষণে জওহর ব্রত পালন করে আত্মাহুতি দিয়েছেন রানি। বাহাদুর শাহকে হারিয়ে রানির পুত্রের হাতে চিতোর তুলে দেন হুমায়ুন।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সৌভ্রাতৃত্ব বাড়াতে রাখি বন্ধনের সূচনা করেন। সমাজের মধ্যে একতা বাড়াতেই এই উদ্যোগ নেন তিনি।

আরও পড়ুন-ডুরান্ডের সেমি নিশ্চিত করতে চায় আলেহান্দ্রোর ছেলেরা